
চ্যাম্পিয়ন্স লিগের গ্রুপ স্টেজের ৫তম রাউন্ডে,এনফিল্ড স্টেডিয়ামে লিভারপুল ১-৪ করে পিএসভি আইন্ডহোভেনকে হারিয়েছে।
বেশি হয়ে গেছে! সত্যিই বেশি হয়ে গেছে! যখন লিভারপুলের খিলाड়ীদের দ্বিতীয় হাফে অপমানজনক পতনের পরে এনফিল্ডের মাঠ থেকে ধীরে ধীরে নিচে নেমে আসল,স্ট্যান্ডে বিরলভাবে থাকা ঘরের দর্শকেরা সবকিছু বোঝিয়ে দিয়েছে।
যদিও ফাইনাল উইসলে বिखরে থাকা বূয়ার শব্দ গুঞ্জিল,কিন্তু ফ্যানদের কোনো বড় আকারের বিরোধ হয়নি। আর টুকরো টুকরো হয়ে পড়া টিমের জন্য তালি বাজানো কেবল একটি আনুষ্ঠানিক ইশারা ছিল। তবে এই ট্র্যাজেডিটি দেখে থাকা প্রত্যেকে জানত:লিভারপুলের কোচ আর্নে স্লট বরখাস্ত করার কগারে দাঁড়িয়ে আছেন।
৯০মিনিটে কপ স্ট্যান্ডের দর্শকরা রুটিনের মতো “ইউ নেভার ওয়াক অলোন” গাইলে,সেই অর্ধহৃদয়ভাবে গাওয়া গীতটি লিভারপুলের দ্বিতীয় হাফের পারফরম্যান্সের চেয়ে বেশি সত্যিকারক ছিল। এই ধ্বংসকারী রাতে,রেডস(লিভারপুল)কে শুধুমাত্র বিশ্বাস、আত্মবিশ্বাস、সংগঠন ও গুণমানের অভাব ছিল না,বরং আরও চিন্তাজনক ব্যাপার——কিছু ব্যতিক্রম বাদে——এমনকি সবচেয়ে মৌলিক লড়াইয়ের মানসিকতা ও দৃঢ়তাও Исчез করে গিয়েছিল। পুরো টিম বিনা কোনো বিরোধে আত্মসমর্পণ করছে বলে মনে হল,খুব সহজেই হার মান लিয়েছিল।
চ্যাম্পিয়ন্স লিগকে ক্রুর প্রিমিয়ার লিগের মাঝে একটি আশ্রয়স্থল মনে করা হতো,কিন্তু এনফিল্ডে আরেকটি পতন——পিএসভি আইন্ডহোভেনের ৪-১কে বিশাল বিজয়——ড্রেসরুম থেকে বোর্ডরুম পর্যন্ত একটি শৃংখলা প্রতিক্রিয়া ট্রিগার করতে পারে। পিছলے ১২টি ম্যাচে ৯টি হারের সাথে,যদি অক্টোবর স্লটের টিমের জন্য একটি কাবুস ছিল,তাহলে নভেম্বর একটি সম্পূর্ণ ধ্বংসকারী ট্র্যাজেডি ছিল। অ্যাস্টন ভিলা ও রিয়াল ম্যাড্রিডের বিরুদ্ধে পিছলের বিজয় সংকটে ডুবে পড়া টিমের জন্য কেবল একটি মায়া ছিল। অসন্তুষ্টির শীতকাল পুরোপুরি এসে পড়েছে,এবং গত গরমে খিতाब জিতের স্মৃতি সেই টিমের জন্য দূরের কথা হয়ে গেছে যে পিছলے তিনটি ম্যাচে ১০টি গোল খেয়েছে(দুটি ঘরের মাঠে)。এই খিলाड়ীরা তাদের কোচের জন্য খেলতে চায় না,না চায় কিছু পরিবর্তন আনতে প্রয়াস করা——কিন্তু আত্মবিশ্বাস নেমে গিয়েছে,বিশ্বাস ফিকা হয়ে গিয়েছে,এবং লচीलতা ক্লান্ত হয়ে গিয়েছে।
শুরুতে পেনাল্টি দেওয়া স্লটের টিমের মানসিকতা ধ্বংস করতে পেরেছে——বির্জিল ভান ডাইক একটি কর্নারে বোঝা না যায় কারণে বলকে হাতে ধরে নিয়েছিল,এবং ইভান পেরিশিক সহজেই পেনাল্টি কনভার্ট করে নিয়েছিল। যদিও ডমিনিক সোবোসলাই ১০মিনিট পরে কোডি গাক্পোরের শট ফলোআপ করে সমান করে নিয়েছিল,কিন্তু দুর্বল রক্ষাকে পিএসভিকে বिनা কোনো পরিশ্রম করেই হাফটাইম পর্যন্ত সমান স্থিতিতে রাখতে দিয়েছিল।
ক্রিস্টাল প্যালেস、চেলসি ও গ্যালাতাসারাইর বিরুদ্ধে বাহিরের মাঠে হারের কারণ বোঝা যায়;ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের বিরুদ্ধে ঘরের মাঠে হার মাফ করা যায়;এমনকি ব্রেন্টফোর্ডে হারও বিশ্বের শেষ নয়;এবং ইটিহাদ স্টেডিয়ামে ম্যানচেস্টার সিটির বিরুদ্ধে হারের প্রত্যাশা ছিল।
কিন্তু কোনোভাবেই স্লটকে লিগ কাপে ঘরের মাঠে ক্রিস্টাল প্যালেসের বিরুদ্ধে সেকেন্ড স্ট্রিং টিম派 করে হার মানতে হবে না,এনফিল্ডে শন ডাইচের নটিংহাম ফরেস্টের বিরুদ্ধে ৩-০ করে শাটআউট হয়ে হবে না,এবং নিশ্চিতভাবেই ঘরের মাঠে পিএসভি দ্বারা এতটা অপমানজনকভাবে হারিয়ে হবে না——স্পষ্টভাবে,এই টিম এই সিজন চ্যাম্পিয়ন্স লিগের ক্নকআউট স্টেজের জন্য কোয়ালিফাই করার কাছেও নয়।
এই হার,যা ক্লাবের সবচেয়ে খারাপ ঘরের ইউরোপিয়ান হারের সমান,রেডসের সকল প্রতিযোগিতায় ১২টি ম্যাচে ৯টি হার ছিল,এবং लगभग প্রত্যেক হারই যোগ্য ছিল। ছয় মাস আগে প্রিমিয়ার লিগের খিতाब জিতে এমন টিম এখন কেবল দূরের স্মৃতি রাখে। সেই খিতाब জিতকার টিমটি অনেক আগে থেকে Исчез করে গিয়েছে,এবং তার জায়গায় আসা টিমটি তার সমান নয়——কাছেও নয়।
কেউ কেউ ভাবতে পারে যে ওয়েস্ট হ্যাম、সান্ডারল্যান্ড ও লিড্স ইউনাইটেডের বিরুদ্ধে আগামী প্রিমিয়ার লিগের ম্যাচগুলো দেখে এই ম্যাচের স্লটের ভবিষ্যতের উপর খুব কম প্রভাব পড়বে। কিন্তু এমন ধ্বংসকারী পারফরম্যান্স বাস্তবিকতা থেকে বাঁচতে দেয় না। সত্যি হলো,এই সিজন স্লটকে অনেক কঠিনाई বাধ্য হয়েছে,যার মধ্যে কিছু তো অভিজ্ঞ কোচই মোকাবেলা করতে পারবে না। কিন্তু বর্তমান টিমটি তাদের কোচের জন্যও,একে অপরের জন্যও লড়াই করতে চায় না।
নিজের স্বার্থে,লিভারপুলের কোচকে এখন হয় পরিবর্তনের জন্য দৃঢ়তা দেখাতে হবে,হয় একটি নতুন ট্যাকটিক্যাল প্ল্যান প্রদান করতে হবে। বর্তমান অবস্থা বজায় রাখলে শুধুমাত্র অনাবশ্যক আত্মহত্যা হবে। তাকে টিমের থেকে জবাব চায়,তাকে ড্রেসরুমকে নিজের সাথে একত্রিত দেখতে চায়,এবং সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ——তাকে জিততে হবে। কোনো মাঝখানے পথ নেই,কোনো আর দয়া নেই。
সেপ্টেম্বরের শেষে ক্রিস্টাল প্যালেসের বিরুদ্ধে হারের পর থেকে,সিজন স্লটের চোখের সামনে টুকরো টুকরো হয়ে পড়ছে। এনফিল্ডের আগের পথ কোথায়?সকারাত্মক দিক কোথায় পাওয়া যাবে?স্লটের পাস নিজের চাকরি বাঁচানোর জন্য হয়তো আর এক সপ্তাহ বাকি,কিন্তু এনফিল্ডের ধৈর্য ইতিমধ্যে সর্বোচ্চ সীমায় পৌঁছে গেছে।




